আজ-  ,

basic-bank

সাপ্তাহিক ইনতিজার রেজি. ন. ডি-এ ১৭ ৬৮ এর একটি ওয়েব সাইট সংষ্করণ


সংবাদ শিরোনাম :
«» বাংলাদেশ ইউনিয়ন পরিষদ ফোরাম কর্তৃক সফল ”এ” গ্রেড চেয়ারম্যান ও গোল্ড মেডেল” পদক ঘোষণা «» টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে ছায়ানীড়ের ভাষা অনুষ্ঠিত «» বাংলাদেশ আওয়ামী তথ্য-প্রযুক্তি লীগ আহবায়ক কমিটি, টাঙ্গাইল জেলা শাখা। «» এ মানচিত্র আমার «» টাঙ্গাইলরে গোপালপুরে নলনি বাজারে ভয়াবহ অগ্নকিান্ড; ক্ষতি ২৫ লাখ টাকা «» শীতের আগমনী গান «» মৃতঃ ব্যক্তির স্থলাভিষিক্ত অন্যজন উপস্থিত হয়ে জমি বিক্রয় বিষয়টি সম্পূর্ন ভুল হয়েছে- ডাঃ স্বপ্না রাণী, সাব রেজিঃ, সখীপুর-টাঙ্গাইল «» ধুনটে চালকের মুখে গাম লাগিয়ে অটোভ্যান ছিনতাই «» বিপিএলের সময়ে কিছুটা পরিবর্তন «» মেসির জাদুরে জয় পেল বার্সেলোনা

শীতের আগমনী গান


তাহমিনা আকতার পাতা

আমাদের দেশ সবুজ গাছ পালা, দিগন্ত জোড়া ফসলের মাঠ, নদী প্রান্তর সব মিলিয়ে সুন্দর একটি দেশ। তেমনি ভাবে এদেশের ঋতু বৈচিত্র্যও ভীষণ আকর্ষনীয়। ষড় ঋতুর দেশ বাংলাদেশ। সময় ভেদে এখানে চলে পরিবর্তনের বারোয়ারী খেলার মিলন মেলা। কখনও গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ, হেমন্ত কখনও শীত বা বসন্ত। একেক সময় একেক রকম দিন বদলের পালা। এ যেন অন্যরকম অনুভূতির দৃশ্যপট। ঋতু বদলের পালাক্রমে প্রত্যেক ঋতু স্ব স্ব বৈশিষ্ট্য নিয়ে আবির্ভূত হয়। তেমনি একটি ঋতুর নাম শীত। পৌষ ও মাঘ এ দুমাস শীতকাল। এ সময় চারিদিকে শীতের পদধ্বনি বাজে। কুয়াশার চাদরে মুড়ে থাকে প্রকৃতি। হীম হীম নিস্তব্ধতা বিরাজ করে রাতের আঁধারে। আর দিনের বেলা উষ্ণ নরম রোদে আমোদিত মন প্রকৃতির নিজস্ব খেলায় ভরে ওঠে।
তবে কখনও কখনও বেশী কুয়াশার কারণে সূর্যের আলো দেখা যায় না বললেই চলে। শীতে যাদের উপযুক্ত কাপড় থাকে না এ সময়টা তাদের জন্য খুবই পীড়াদায়ক। প্রচন্ড ঠান্ডা উপেক্ষা করে গ্রামের কৃষকদের যেতে হয় মাঠে। কৃষক, শ্রমিক মেহনতী মানুষের পরিশ্রমের দীর্ঘশ^াস পথে প্রান্তরে, হাটে, মাঠে- ঘাটে জীবনের কথা বলে। শীত, গ্রীষ্ম, বর্ষা বা বসন্ত যে সময়ই আসুক না কেন এরা সদাই পরিশ্রমের মূর্ত প্রতীক। কনকনে ঠান্ডায় খেটে -খাওয়া মানুষদের স্বপ্ন, পরিশ্রম স্তব্ধ হয়না কখনও। তবে এ সবের মাঝেও সত্য এবং মনোরম দৃশ্য হলো শীতের সকালে গ্রামের পরিবেশে এক সাথে অনেকে জড়োসড়ো হয়ে আগুনের তাপ নেয়া। মাঝখানে আগুনের শিখা তার চারপাশে নানা গল্প-গুজবে মেতে উঠে উষ্ণ তাপ পোহানো যেন একতাই বল কথাটির মতো এক সুন্দর দৃশ্যর অবতারণ। রাস্তার মোড়ে চায়ের দোকান গুলোতে জমে ওঠে ভিড়। হকার পত্রিকা নিয়ে ছুটে যায় মানুষের ঘরে, অফিস দোকান বিভিন্ন স্থানে। ঠান্ডা শীতের সময়ে রাজনৈতিক গরম খবর, ক্যাসিনো কান্ডে জুয়ারী টাকা, নির্বাচন, কছিু কছিু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্কুল, কলেজ, বিশ^বিদ্যালয়ে উত্তাল হাওয়ার আন্দোলন খবর যেন শীতকেও হার মানায়। জাতীয় জীবনে এই উত্তাল ছবির বাইরে শীত তার নিজস্ব বলয়ে চলে। এ সময় চারিদিকে পিঠা পায়েস খাওয়ার ধুম পড়ে যায়। প্রাকৃতিক পরিবেশে শান্ত শীতল আমোদিত আবেশ বিরাজ মান। শিশির সিক্ত পথে শিশিরের চাদরে ¯œাত হয় লাবণ্য মাখা কিশোরী সকাল আর নূপুর পড়া দু’পা। যেন আবেগী, আবেশী হৃদয় সঙ্গম দ্বারে শুভকামনার এক অনন্ত কাব্যগাঁথা।
যখন কনকনে ঠান্ডা পড়ে, কোথাও কোথাও সূর্যের আলো দেখা যায় না তাপমাত্রা জিরো ডিগ্রী সেলসিয়াসে নেমে আসে তখন মানুষের দেহমন ক্ষনিকের জন্য আড়ষ্ট করে ফেললেও মনের মধ্যে এক ধরনের সজীবতা থেকেই যায়। শীতের উষ্ণ সকাল অদম্য কর্ম স্পৃহা জোগায়। মানুষ সারাদিনের ব্যাপক কাজেও খুব বেশী ক্লান্তি অনুভব করেনা। বাংলাদেশ পৃথিবীর অন্যান্য দেশের মতো শীত প্রধান দেশ নয় বলে এখানে এর স্থায়ীত্ব খুব কম এবং তুষারপাত হয়না। এদেশ উষ্ণমন্ডলীয় দেশ সেজন্য এখানে শীত অনেকটা উপভোগ্য, আরামদায়ক। নরম মিষ্টি রোদ কুয়াশা ভেদ করে যখন প্রকৃতিতে ছড়িয়ে পড়ে তখন মিষ্টি সে রোদের আলো মানুষের মনকে আনন্দিত করে ।
এ সময় শীতকালীন ছুটির জন্য বেশীরভাগ স্কুল, কলেজ, বিশ^বিদ্যালয় কিছুদিনের জন্য বন্ধ থাকে। তাছাড়া স্কুলে বাচ্চাদের বার্ষিক পরীক্ষা শেষ হয়ে যায়। রুটিন বাধা জীবনের মাঝে কিছুটা সময় বাধাহীন আনন্দের মতো ছুটে যেতে চায় এই স্থান থেকে অন্য কোন স্থানে এই বসবাস ছেড়ে অন্য কোন বসতিতে। তাই অবকাশ যাপনে সবার বেড়ানোর ধুম পড়ে যায়। কেউ গ্রামের বাড়ি বা দেশ বিদেশে ছুটে যায়। শীতের ছুটিতে গ্রামে বেড়ানোর মজাই আলাদা। নাগড়িক জীবনের ব্যাস্ত রাজপথের শ্লোগান মেশানো চরম বায়োপিক রূপরেখা ভেদ করে কিছুটা সময় পল্লী মায়ের শান্ত সুনিবিড় পরিবেশ মন কেড়ে নেয় মানুষের। মায়ের হাতের শীতের পিঠা, পায়েস ও নানা রকম খাবার যেন অন্যন্যা আয়োজন, ঘুম ভাঙা ভোরে পথের ধারে দু, কাঁধে কলসি ঝুলিয়ে লোকেদের খেজুরের রস বিক্রীর হাক ডাক মন চাঞ্চল্য করে তোলে। মাঠের পর মাঠ হলুদ সর্ষে ফুল আর ফুল যেন রঙ তুলিতে আঁকা অনাবিল আনন্দ ছবি।
প্রকৃতির হৃদয়ের আঁকা এ ছবি শীতের শরীরে মিলে মিশে একাকার । তাই জরা জীর্ণতা যদিও বা কিছু থাক সব বিবেচনায় শীত আমাদের কাছে আশির্বাদ স্বরূপ। স্বপ্ন, আশা-আকাঙ্খা ও সময়ের দাবীতে প্রতিনিয়ত সারথীরা কান পেতে থাকে শীতের আগমনী গান শোনার জন্য \

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Powered By : Intizar24 Developed By : BDiTZone