আজ-  ,

basic-bank

সাপ্তাহিক ইনতিজার রেজি. ন. ডি-এ ১৭ ৬৮ এর একটি ওয়েব সাইট সংষ্করণ


সংবাদ শিরোনাম :

টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে শিক্ষিতা হিন্দু মেয়ের ইসলাম ধর্ম গ্রহনে আলোড়ণ

শ্রী মতি উর্মিলা রানী সরকার তার স্বামি সামাদ আলীর ফেসবুক আইডি থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর স্ট্যাটাস দিয়ে জানায় সে স্ব জ্ঞানে ইসলাম ধর্মের অনুসারী হেয়েছে। সে আর হিন্দু নয় নয়। সে মহান আল্লাহ কে একমাত্র সৃষ্টিকর্তা এবং হযরত মোহাম্মদ সা: কে নবী হিসেবে মেনে নিয়েছে। সে ইসলামের আদর্শে নীতি ও নৈতিকতা মেনে জীবন অতিবাহিত করতে চায়।

ফেসবুক স্ট্যাটাসে সে টাঙ্গাইল জজকোর্টে নোটারী পাবলিক এর সহায়তায় ধর্মান্তরিত হওয়ার ডকুমেন্টসহ পোষ্ট করে। সেখানে সে স্বজ্ঞানে, বিনা প্ররোচনায়, কারো দ্বারা প্রভাবিত না হয়ে সে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছে বলে জানায়।

টাঙ্গাইল জেলার ঘাটাইল থানার ১০ নং রসুল পুর ইউনিয়নের মোমিনপুর ওয়ার্ডের গড়ানচালা গ্রামের মো: আশকর আলীর একমাত্র পুত্র মো: সামাদ আলী তার এলাকার শ্রী অমল চন্দ্রের মেয়ে উর্মিলা রানীকে নিয়ে গত ২৩ সেপ্টেম্বর এলাকা থেকে পালিয়ে যায়।

হিন্দু মেয়ে মুসলমান ছেলের সাথে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা এই এলাকায় এটাই প্রথম। দুজনেই একই ক্লাসে পড়ালেখা করত। গতবছর দুজনেই এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে।

সামাদ আলী পড়ালেখার পাশাপাশি বাবাকে কৃষিকাজে হেল্প করত এবং রসুলপুরের এক ইটের ভাটায় ইটের সিজনে নিয়মিত কাজ করত সে। অমল চন্দ্র সরকারের একমাত্র মেয়ে উর্মিলা দেখতে খুবই সুন্দরি ছিলেন।

ছোট বেলা থেকেই দুজনে একই প্রাইমারী স্কুল ও হাইস্কুলে পড়ালেখা করতো। এমনকি দুজনে সবসময় একই স্যারের কাছে প্রাইভেট পড়ত। কোচিং করতো দুজনে অভিন্ন কোচিং-এ।

আশকর আলী খুব কষ্ট করে কৃষি কাজ করে দুই মেয়ে ও এক ছেলেকে মানুষ করে। সে অর্থনৈতিক ভাবে অস্বচ্ছল হলেও ছেলেকে মানুষ করার প্রানান্ত চেষ্টা করেছিল।

শ্রী অমল চন্দ্র সরকার খুব সাদাসাদি একজন মানুষ। কখনো কারো সাথে কোন ঝগড়া ফ্যাসাদে তিনি যুক্ত হয়েছেন এমনটা জানা যায়নি। খুব খাটতে পারেন। প্রচুর পরিশ্রম করে স্ত্রী ও একমাত্র মেয়েকে নিয়ে তিনি সুন্দরভাবেই দিন কাটাচ্ছিলেন। একমাত্র মেয়ে উর্মিলা হওয়ায় মা -বাবার কাছে যখন যেমন আবদার করত ঠিক তেমনটাই মা-বাবা দিতেন।

উর্মিলা রানী সরকার প্রাইমারীতে পড়ার সময় থেকেই সামাদ আলীর সাথে প্রেম ভালোবাসায় লিপ্ত হয়। তারা বড় হতে থাকে। বুদ্ধি-ও বৃদ্ধি পায়। অনেকের কাছেই তাদের মেলামেশা দৃষ্টিকটু লাগলেও সেটা যে এতোবধি গিয়ে গড়াবে কেউ চিন্তাও করতে পারেনি।

অত্র এলাকার এই প্রথম এমন ঘটনা ঘটায় এলাকায় চাঞ্চল্যর সৃষ্টি হয়েছে। আলোড়ণ সৃষ্টিকারী এই ঘটনায় এলাকায় এক ধরণের থমথমে পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে।

মেয়েকে খুঁজে না পেয়ে তাৎক্ষণিক ঘাটাইল থানায় সাধারণ ডায়রী (জিডি) করা হলেও ৩রা অক্টোবর অমূল্য চন্দ্র সরকার বাদি হয়ে মেয়ের জামাই ও তার পরিবারের সকল সদস্যকে জড়িয়ে মামলা দায়ের করেন। অপহরণ ও ধর্ষণ মামলা সাজানো হয়েছে।

উর্মিলা রানী সরকার টাঙ্গাইল জজ কোর্টে এফিডেবিট করার কাগজে জন্ম সাল ১৯৯৯ বলেছেন। আদালত কর্তৃক স্বিকৃত সে সাবালিকা। অমূল্য চন্দ্র সরকার ও তার অভিভাবক গণ আইনিভাবে চেষ্টা করছেন সামাদ আলী ও তার পরিবারকে নিগৃহিত করার।

ধর্মান্তরিত হওয়ায় হিন্দু ধর্মের অনুসারীরা ক্ষেপেছেন। তারা মেয়ে ও ছেলের পরিবারকে গালমন্দ করছেন, অভিশাপ দিচ্ছেন। ফেসবুকে দেখা যায় এসব নিয়ে হিন্দু ধর্মালম্বী অনেকেই পোষ্ট দিয়েছেন অপরদিকে মুসলমান লোকজন তাদের স্বাধীন চিন্তা ভাবনাকে সমর্থন যুগিয়েছেন। কোন বিরূপ মন্তব্য করতে দেখা যায়নি।

মুসলমানদের এবং সু-শিক্ষিত লোকদের অভিমত কোন জাতি -ধর্ম- বর্ণ- গোত্র ভালোবাসার মধ্যে বিবেদ তৈরি করতে পারে না।ওরা সাবালক-সাবালিকা। ওরা নিজেদের সিদ্ধান্ত নিজেরা নিতে পারে। ওদের বয়স হয়েছে নিজেদের ভাল মন্দ বোঝার। ওদের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ না করে উভয় পরিবারের উচিত ওদের পরবর্তী জীবনে চলার পথে সহযোগিতা করা।

সামাদ আলী ও উর্মিলা কোথায় পালিয়ে আছেন এখন-ও জানা যায়নি। তবে অনেকের অনুমান উভয়েই ঢাকাতে কোথাও চলে গিয়েছেন। সেখানেই হয়ত বাস করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

ঘাটাইল থানা পুলিশ মামলাটি আমলে নিয়েছে। এখন দেখার অপেক্ষা উর্মিলা মুসলমান হওয়ায় এবং মুসলমান ছেলেকে ভালোবেসে বিয়ে করায় কি রয়েছে তার ভাগ্যে?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Powered By : Intizar24 Developed By : BDiTZone