আজ-  ,

basic-bank

সাপ্তাহিক ইনতিজার রেজি. ন. ডি-এ ১৭ ৬৮ এর একটি ওয়েব সাইট সংষ্করণ


সংবাদ শিরোনাম :
«» বাংলাদেশ ইউনিয়ন পরিষদ ফোরাম কর্তৃক সফল ”এ” গ্রেড চেয়ারম্যান ও গোল্ড মেডেল” পদক ঘোষণা «» টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে ছায়ানীড়ের ভাষা অনুষ্ঠিত «» বাংলাদেশ আওয়ামী তথ্য-প্রযুক্তি লীগ আহবায়ক কমিটি, টাঙ্গাইল জেলা শাখা। «» এ মানচিত্র আমার «» টাঙ্গাইলরে গোপালপুরে নলনি বাজারে ভয়াবহ অগ্নকিান্ড; ক্ষতি ২৫ লাখ টাকা «» শীতের আগমনী গান «» মৃতঃ ব্যক্তির স্থলাভিষিক্ত অন্যজন উপস্থিত হয়ে জমি বিক্রয় বিষয়টি সম্পূর্ন ভুল হয়েছে- ডাঃ স্বপ্না রাণী, সাব রেজিঃ, সখীপুর-টাঙ্গাইল «» ধুনটে চালকের মুখে গাম লাগিয়ে অটোভ্যান ছিনতাই «» বিপিএলের সময়ে কিছুটা পরিবর্তন «» মেসির জাদুরে জয় পেল বার্সেলোনা

বরিশাল অঞ্চলে প্রস্তুত ২৫ হাজার স্বেচ্ছাসেবক

ঘূর্ণিঝড় ফণীর প্রভাবে গতকাল বৃহস্পতিবার বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলের সর্বত্র মেঘলা ও গুমোট আবহাওয়া বিরাজ করেছে। নদ–নদীগুলো ছিল উত্তাল। বিভাগের ছয় জেলায় ১ হাজার ৬৮০টি ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কেন্দ্রের ২৫ হাজার স্বেচ্ছাসেবকও প্রস্তুত। উপকূলে চলছে মাইকিং।

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’ ক্রমেই শক্তি বাড়াচ্ছে। এর গতিপথ ভারতের ওডিশার দিকে হলেও তা বড় ধরনের ছোবল মারতে পারে বরিশালসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোর ওপর। এতে বরিশালসহ বিভাগের সব জেলাজুড়ে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

বরিশাল আবহাওয়া অধিদপ্তরের বরিশাল কার্যালয়ের জ্যেষ্ঠ পর্যবেক্ষক প্রণব কুমার রায় গতকাল বলেন, ফণীর অগ্রবর্তী অংশের প্রভাব আজ সকাল থেকেই দেশের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলে শুরু হতে পারে। ঘূর্ণিঝড়টি খুব শ্লথগতিতে তার লক্ষ্যের দিকে এগোচ্ছে।

স্থানীয় প্রশাসন সূত্র জানায়, বরিশালের ছয় জেলার ৪২টি উপজেলায় ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্রগুলো প্রস্তুত রাখা হয়েছে। খোলা হয়েছে নিয়ন্ত্রণকক্ষ। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। গঠন করা হয়েছে চিকিৎসক দল। প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে। শুকনো খাবার, চাল ও অন্যান্য খাদ্যসামগ্রী মজুত রাখা হয়েছে। উপকূলের জেলাগুলোতে মাইকিং করে ঝড়ের সংকেত প্রচার করা হচ্ছে। প্রশাসনের সব কর্মকর্তার ছুটি বাতিল করা হয়েছে।

বরিশাল জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আবদুল লতিফ বলেন, বরিশালে ২৩২টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এ ছাড়া ৪০০ মেট্রিক টন চাল, দুই হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার, নগদ সাত লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এ ছাড়া প্রতিটি উপজেলায় চার লাখ টাকা করে বরাদ্দ রাখা হয়েছে। জেলা ও উপজেলাগুলোতে খোলা হয়েছে নিয়ন্ত্রণকক্ষ।

ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কেন্দ্রের বরিশাল জেলা কার্যালয় সূত্র জানায়, উপকূলে ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কেন্দ্রের ৫৫ হাজার ৫০০ স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত আছেন যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য। এর মধ্যে বরিশাল বিভাগের ছয় জেলায় ২৫ হাজার স্বেচ্ছাসেবক রয়েছেন।

প্রস্তুতি কেন্দ্রের জেলা উপপরিচালক মো. আবদুর রশিদ বলেন, তাঁদের স্বেচ্ছাসেবকেরা মাঠে মাইকিং করে স্থানীয় লোকজনকে সতর্ক করছেন।

লঞ্চ না ছাড়ায় অনেক যাত্রী ঘাটে এসে ফিরে গেছেন। আবার কেউ আটকা পড়েছেন। বরিশাল নগরের লঞ্চঘাটে।  প্রথম আলো

লঞ্চ না ছাড়ায় অনেক যাত্রী ঘাটে এসে ফিরে গেছেন। আবার কেউ আটকা পড়েছেন। বরিশাল নগরের লঞ্চঘাটে।

জেলা প্রশাসক এস এম অজিয়র রহমান বলেন, আবহাওয়া বার্তায় জলোচ্ছ্বাস ও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার কথা বলা হয়েছে। এমন দুর্যোগের পর বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দেয়। তাই পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট ও চাপকল নিরাপদে ঢেকে রাখার জন্য গ্রামপর্যায়ে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বরগুনার তালতলী উপজেলার বাসিন্দা মো. আলম বলেন, তাঁদের এলাকায় গতকাল সকাল থেকে মাইকিং করে ঝড়ের সংকেত প্রচার করা হচ্ছে। উপকূলের নদ-নদী অশান্ত হয়ে পড়েছে। জোয়ারের পানি অস্বাভাবিক বেড়েছে। মেঘলা আবহাওয়ার মধ্যেও তীব্র গরম অনুভূত হচ্ছে। আর থেমে থেমে দমকা বাতাস বইছে। সম্ভাব্য ঝড় আসার খবরে লোকজনের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। তবে কেউ গতকাল পর্যন্ত আশ্রয়কেন্দ্রমুখী হননি।

জেলা ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী বলেন, ফণীর প্রভাবে সাগর উত্তাল থাকায় মাছ ধরার ট্রলার সুন্দরবনের ভেতরে নিরাপদ আশ্রয় নিয়েছে। তবে তাঁদের দুটি ট্রলারের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।

জেলা প্রশাসন বলা হয়, নগদ অর্থ, টিন, চাল, শুকনো খাবারসহ বরগুনায় ৩৩৫টি আশ্রয়কেন্দ্র ও প্রায় ১০ হাজার স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত রাখা হয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে ৪২টি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে।

পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক আবু আলী মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, জেলার ১৯৩টি ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্রের পাশাপাশি বহুতল বিদ্যালয় ও কলেজের ভবনও প্রস্তুত।

স্বেচ্ছাসেবকেরা মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে মাইকিং করছেন। পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া শহরের তুষখালী সড়কে।  প্রথম আলো

স্বেচ্ছাসেবকেরা মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে মাইকিং করছেন। পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া শহরের তুষখালী সড়কে।

পটুয়াখালীতে ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচির আওতায় সাড়ে পাঁচ হাজার স্বেচ্ছাসেবক মাঠে নেমেছেন। জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম বলেন, জেলায় ৩৯১টি ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ১১১টি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। ত্রাণ সহায়তার লক্ষ্যে ১০ লাখ টাকা ও আড়াই হাজার শুকনো খাবারের প্যাকেট বরাদ্দ পাওয়া গেছে।

 এদিকে ভোলার চরাঞ্চলের মানুষ খেতের ফসল তোলায় ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। গতকাল দুপুরের পরে আকাশ কিছুটা মেঘাচ্ছন্ন ও গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হয়েছে। চরাঞ্চলবাসী এখনো আশ্রয়কেন্দ্রে যাননি। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদ আলম ছিদ্দিক জানান, ৫৫৭টি সাইক্লোন শেল্টার প্রস্তুত রাখা হয়েছে। খোলা হয়েছে সাতটি নিয়ন্ত্রণকক্ষ, ৮৩টি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটের পাঁচ শতাধিক ভলান্টিয়ার প্রস্তুত।

ঝালকাঠিতে ইতিমধ্যে ২৮টি আশ্রয়কেন্দ্রসহ পাকা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও মসজিদ-মন্দিরকে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহারের উপযোগী করা হয়েছে। ৩৭টি মেডিকেল টিম ও দুই হাজার স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত রাখা হয়েছে। গতকাল জেলা ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় এসব সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Powered By : Intizar24 Developed By : BDiTZone