আজ-  ,

basic-bank

সাপ্তাহিক ইনতিজার রেজি. ন. ডি-এ ১৭ ৬৮ এর একটি ওয়েব সাইট সংষ্করণ


সংবাদ শিরোনাম :

ভারতীয় জি নেটওয়ার্কের চ্যানেল বাংলাদেশে বন্ধ

বন্ধ হয়ে গেছে ভারতের জি নেটওয়ার্কভুক্ত বেশ কয়েকটি টেলিভিশন চ্যানেল। সোমবার থেকে দেশের কোথাও দেখা যাচ্ছে না জি বাংলা, জি-সিনেমাসহ এই নেটওয়ার্কের চ্যানেলগুলো। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ ক্যাবল অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (কোয়াব) এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এসএম আনোয়ার পারভেজ।

মঙ্গলবার দুপুরে আনোয়ার পারভেজ বলেন, ‘তথ্য মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়েছে, বিদেশি কোনো চ্যানেলে বিজ্ঞাপন দেখানো যাবে না। বিজ্ঞাপন ছাড়া তো চ্যানেল কোথাও নেই। মন্ত্রণালয় থেকে শুরুতে বলা হয়েছিল, বিদেশি চ্যানেলে বাংলাদেশি বিজ্ঞাপন দেখানো যাবে না। এটা বন্ধ করা হয়েছেও। এখন নতুন করে মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়েছে, কোনো পে-চ্যানেলে বিজ্ঞাপন থাকতে পারবে না। বাংলাদেশের বাজারে পে চ্যানেলে বিজ্ঞাপন ছাড়া প্রদর্শন তো সম্ভব না। এ কারণেই জি নেটওয়ার্কের চ্যানেলগুলো পুরো বাংলাদেশে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।’

কোয়াব সভাপতি আনোয়ার পারভেজ 

\হজানান, শুধু ভারতের জি নেটওয়ার্কভুক্ত চ্যানেল না, কিছুদিনের মধ্যে বিশ্বের আরও যেসব দেশের চ্যানেল আছে সেগুলোও বন্ধ হয়ে যাবে। সিএনএন, বিবিসি-ও বাদ যাবে না, কারণ এসব চ্যানেলেও বিজ্ঞাপন প্রচারিত হয়। শুধু বাংলাদেশের চ্যানেল থাকবে। আমি তো বাংলাদেশের ৩০টা চ্যানেল দিয়ে ব্যবসা করতে পারব না। শুধু বাংলাদেশের চ্যানেল কোনো সাবস্ক্রাইবার দেখবে বলে মনে হয় না। আমার মনে হয়, ২% সাবস্ক্রাইবারও তখন থাকবে না। বাধ্য হয়ে তখন আমাকেও এই ব্যবসা বন্ধ করে দিতে হবে। ইউটিউব কেউ বন্ধ করতে পারবে? এসব সিদ্ধান্তের কোনো যৌক্তিকতা নাই। এটা হঠকারী সিদ্ধান্ত।’

অন্যদিকে তথ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মিজান উল আলম জানান, চ্যানেল বন্ধ করে দেওয়ার কোনো নির্দেশনা কিন্তু মন্ত্রণালয় থেকে দেয়া হয়নি। যত দূর জানেন, ক্যাবল অপারেটরদের কাছে এসব চ্যানেলে বাংলাদেশি বিজ্ঞাপন সম্প্রচার হচ্ছে কিনা তা জানাতে বলা হয়েছে। বিষয়টি সাত দিনের মধ্যে জানাতে ক্যাবল অপারেটরদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এখন চ্যানেল কেন বন্ধ করা হয়েছে তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষই বলতে পারবেন।

বাংলাদেশের ক্যাবল টেলিভিশন পরিবেশক প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পর্যায়ের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘ক্যাবল টেলিভিশন ব্যবসা নিয়ে কয়েকটা পক্ষের মধ্যে একটা বৈরী সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। এভাবে সমস্যার সমাধান সম্ভব না। প্রতিটি পক্ষকে একসঙ্গে নিয়ে কথা বলতে হবে। সবার কি কি সমস্যা জানতে হবে। এখানে কেউ কারও প্রতিপক্ষ নয়। সরকারের উচিত সবাইকে একসঙ্গে নিয়ে বসে এসব সমস্যার সমাধান করা। আর চ্যানেল বন্ধ কিন্তু বেশি দিন তো রাখা যাবে না। আমরা দর্শক প্রতিক্রিয়াও বোঝার চেষ্টা করছি। যে কোনো সময় চালু হয়ে যেতে পারে বন্ধ থাকা চ্যানেলগুলো।’

এদিকে সরকার কোনো চ্যানেলের সম্প্রচার বন্ধ করেনি জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেছেন, তারা কেবল প্রচলিত ‘আইন প্রয়োগ’ করেছেন।

‘কেবল টেলিভিশন নেটওয়ার্ক পরিচালনা আইন, ২০০৬’ এর উপধারা-১৯(১৩) এর বিধান লঙ্ঘন করে বাংলাদেশে ডাউনলিংক করা বিদেশি টিভি চ্যানেলের মাধ্যমে বিজ্ঞাপন প্রচার করায় পরিবেশক (ডিস্ট্রিবিউটর) প্রতিষ্ঠান নেশনওয়াইড মিডিয়া লিমিটেড এবং জাদু ভিশন লিমিটেডকে সোমবার কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয় তথ্য মন্ত্রণালয়। সাত দিনের মধ্যে ওই দুটি প্রতিষ্ঠানকে কারণ দর্শাতে বলা হয়েছিল।

মঙ্গলবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা নোটিশ দিয়েছি বিজ্ঞাপন ছাড়া যেন দেখানো হয়। নোটিশের জবাব পাওয়ার প্রেক্ষিতে আমাদের সিদ্ধান্ত হবে।’

হাছান মাহমুদ বলেন, বাংলাদেশে বিদেশি কোনো চ্যানেলে কোনো ধরনের বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করা যায় না। শুধু দেশীয় বিজ্ঞাপন নয়, কোনো ধরনের বিজ্ঞাপন দেখানো যায় না, এটি হচ্ছে বাংলাদেশের আইন। একই ধরনের আইন ভারত, যুক্তরাজ্য, ইউরোপেও আছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Powered By : Intizar24 Developed By : BDiTZone