আজ-  ,

basic-bank

সাপ্তাহিক ইনতিজার রেজি. ন. ডি-এ ১৭ ৬৮ এর একটি ওয়েব সাইট সংষ্করণ


সংবাদ শিরোনাম :

শিশুর জলবসন্তে

ভীষণ ছোঁয়াচে ভাইরাসজনিত অসুখ জলবসন্ত বা চিকেন পক্স। বসন্তের আগমনের সময় এ রোগ হতে পারে। দায়ী জীবাণু হলো হারপেস জাতের ভেরিসেলা ঝোসটার ডিএনএ ভাইরাস।
রোগের লক্ষণ
চিকেন পক্স সাধারণভাবে শিশু বয়সের অসুখ। বিশেষত ২ থেকে ৮ বছর বয়সে। আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে সরাসরিভাবে এলে বা হাঁচি-কাশির সাহায্যে বাতাসে ভর করে এ রোগ ছড়ায়। কখনোবা রোগীর ব্যবহৃত সামগ্রী থেকেও ছড়িয়ে পড়ে চিকেন পক্স। ঘরে কারও এ অসুখ দেখা দিলে অন্য সদস্যদের মধ্যে তা ছড়ানোর আশঙ্কা প্রায় ৯০ শতাংশ। শ্রেণিকক্ষের শিক্ষার্থীদের মধ্যেও দ্রুত ছড়ায়। রোগজীবাণু দেহে প্রবেশের ১৪ থেকে ২১ দিনের মাথায় অসুখের লক্ষণ প্রকাশ পায়। প্রথম কয়েক দিন শারীরিক ক্লান্তি, ম্যাজম্যাজে ভাব, জ্বর, মাথাব্যথা, গলাব্যথা-এসব উপসর্গ থাকে। তারপর শরীরে দেখা দেয় দানাদার ফুসকুড়ি বা র​্যাশ। এক থেকে দেড় হাজার সংখ্যক পর্যন্ত র​্যাশ দেখা দিতে পারে। ছোট শিশুদের বেলায় অনেক ক্ষেত্রে প্রাথমিকভাবে উপসর্গ থাকে না বা বোঝা যায় না। সরাসরি র​্যাশ দিয়ে রোগের প্রকাশ ঘটে। এই র​্যাশ বেশ চুলকানো প্রকৃতির। ম্যাকিউল, পেপিউল ও ভেসিকুলার বিভিন্ন প্রকারের র​্যাশ রোগীর শরীরে একই সময় মেলে। র​্যাশের এই বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত চেহারা, বুকে, পিঠে নজর কাড়ে বেশি। তবে তা হতে পারে মুখগহ্বরের ভেতরে, চোখে, হাতে-পায়ের তালুতে।

 জটিলতা

স্বাভাবিক শিশুর ক্ষেত্রে চিকেন পক্স তেমন গুরুতর সংকট সৃষ্টি করে না। কিশোর, যুবক বা বয়স্কজনের ক্ষেত্রে তুলনামূলকভাবে বসন্ত রোগের জটিলতা বেশি। বিশেষত শিশু যদি অন্য কোনো অসুখে ভোগা রোগ প্রতিরোধক ঘাটতিজনিত অবস্থায় থাকে। চিকেন পক্সজনিত তীব্র জটিলতাসমূহের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো সেপসিস, এনকেফালাইটিস, নিউমোনিয়া।

চিকিৎসা

● বাচ্চার স্বাভাবিক খাবার চালিয়ে যাওয়া। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা, ভীষণ চুলকানো বা ব্যথার জন্য চিকিৎসকের পরামর্শমতো ওষুধ সেবন করানো।

● চিকেন পক্সে কখনোই শিশুকে অ্যাসপিরিন জাতীয় ওষুধ খাওয়ানো যাবে না। এতে করে ‘রি-ই সিনড্রোম’ নামক জটিল অসুখে পড়তে পারে শিশু।

● সেপসিস, নিউমোনিয়া বা এনকেফালাইটিসের যথাযথ ব্যবস্থাপনা।

● অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার চিকিৎসকের পরামর্শমতো হওয়া উচিত।

● এসাইক্লোডির ওষুধ বা ইম্যুনোগ্লোবিন বিশেষজ্ঞের মতামত নিয়ে দিতে হবে।

রোগ প্রতিরোধক টিকা

চিকেন পক্স প্রতিরোধের কার্যকর ভ্যাকসিন বাজারে পাওয়া যায়। দামি হলেও এটি নিরাপদ। বেশ কিছু দেশে রুটিন মেনে ১২ থেকে ১৮ মাস বয়সের মধ্যে চিকেন পক্স ভ্যাকসিন শিশুকে দেওয়া হয়। সংস্পর্শ ঘটার ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ভ্যাকসিন দেওয়া হলে ৮০ শতাংশ ক্ষেত্রে সুফল মেলে।

প্রফেসর ডা. প্রণব কুমার চৌধুরী

বিভাগীয় প্রধান, শিশুস্বাস্থ্য বিভাগ, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Powered By : Intizar24 Developed By : BDiTZone