আজ-  ,

basic-bank

সাপ্তাহিক ইনতিজার রেজি. ন. ডি-এ ১৭ ৬৮ এর একটি ওয়েব সাইট সংষ্করণ


সংবাদ শিরোনাম :

ঘাটাইলে সাব-রেজিস্ট্রি অফিস: বিধি বর্হিভূত দলিল সম্পাদন ঘুষ দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক : ঘাটাইল সাবরেজিস্ট্রি অফিসের কর্মকর্তা কর্মচারীরা মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে জমির মাঠপরচা, খাজনা দাখিলা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছাড়াই জালিয়াতী চক্র গোপনে দাতা সেজে একজনের জমি অন্যজনের নিকট বিক্রি করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে পৌর এলাকার বানিয়াপাড়া গ্রামের লুৎফর রহমান বাদী হয়ে দোষীদের বিরুদ্ধে বিচার চেয়ে ১৭ জানুয়ারি জেলা রেজিস্ট্রার ছাড়াও সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দায়ের করেছেন।

বাদীর অভিযোগ থেকে জানা যায়, ঘাটাইল সাব-রেজিস্ট্রার এ কে এম রফিকুল ইসলামের সহযোগীতায় জমির প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছাড়া গত ৩ ডিসেম্বর ৯০৮৭ নং ক্রমিকে ৯০৮২/১ নং দলিল সম্পাদন করা হয়। এ দলিলের ১১০টি দাগে ৭২ শতাংশ জমির বিপরীতে ৯৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্য নির্ধারন করে দলিল সম্পাদন করে। এ দলিল গ্রহিতা হলেন মোছাঃ নূরজাহান, দিলরুবা ইয়াসমিন ও বিনা খাতুন এবং দাতা মোস্তাফিজুর রহমান, মিজানুর রহমান ও আতিকুর রহমান খান।

অভিযোগের বিবরন থেকে জানা যায়, ১৬৯, ১৭০, ১৭১ নং খতিয়ানের জমি বিভিন্ন রেজিস্ট্রি দলিল মূলে প্রাপ্ত হইয়া স্বত্ববান দখল থাকাবস্থায় হাল জরিপে রেকর্ড প্রাপ্ত হয়ে জমির প্রকৃত মালিক বানিয়াপাড়া গ্রামের মৃত আঃ লতিফ, লুৎফর রহমান ও লোকমান হোসেন। কিন্তু ৯০৮২/১ নং দলিল দাতা মোস্তাফিজুর রহমান গংরা দলিল লেখক আজম আলী, ভেন্ডার নজরুল ইসলাম ও অফিস স্টাফ মুক্তার হোসেনের সহযোগীতায় জাল কাগজ তৈরী করে ভূয়া দাতা সেজে দলিল সম্পাদন করে দেয়।

বাদী জানায়, সাবরেজিস্ট্রার এ কে এম রফিকুল ইসলামও তার প্রধান সহযোগী রাইটার আজমা আলী এবং চিনা সাক্ষী ভেন্ডার নজরুল ইসলাম ও মুক্তার হোসেন লোভের বশবর্তী হয়ে আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে একজনের জমি অন্য জনের নিকট বিক্রি করে দেয়।

ঘাটাইল মৌজার ৯নং খতিয়ানের ১১১ নং দাগের পোনে ১২ শতাংশ জমি ১৯৯৬ সনের ১১ আগষ্ট ৬৫৪৮ নং দলিলের ক্রয়সূত্রে মালিক রৌহা গ্রামের নজরুল ইসলামের স্ত্রী আম্বিয়া খাতুন। সেই জমিতে ২২ বছর পূর্বে বাসা বাড়ী তৈরী করে অন্য লোক বসবাস করে আসছে। ক্রয়সূত্রে মালিকের সাথে ৯০৮২/১নং দলিলের দাতা-গ্রহিতার কোন প্রকার সর্ম্পক নাই বলে জানা গেছে। অথচ সাব-রেজিস্ট্রার ও দলিল লেখকের যোগসাজশে দাতা মোস্তাফিজুর রহমান গংরা জাল কাগজ তৈরী করে সেই জমি অন্যের কাছে বিক্রি করে দেয়। তাছাড়াও ঘাটাইল মৌজার ১৬২নং খতিয়ানের হাল ৬১০নং দাগের ৬ শতাংশ (বাড়ী) মালিক সাবেক কমিশনার আঃ করিম অথচ ৯০৮২/১ নং দলিলের দাতা মোস্তাফিজুর রহমান খান ও তার দুই ভাই জাল কাগজ তৈরী করে সেই ৬ শতাংশ বাড়ী অন্যের কাছে বিক্রি করে দেয়।

এ বিষয়ে দলিল লেখক আজম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, দলিল দাতা মোস্তাফিজুর রহমান যেসব কাগজ দিয়েছে আমি সেই অনুসারে দলিল লিখে দিয়েছি। তবে কাগজপত্র জাল থাকায় দলিল লেখা ভুল হয়েছে।

জাল কাগজের বিষয়ে ঘাটাইল সাব রেজিস্ট্রার এ কে এম রফিকুল ইসলাম বলেন, দলিল লেখক ও ভেন্ডার নজরুলের কারনে আমার ভুল হয়ে গেছে। তবে জেলা রেজিস্ট্রারের সাথে আমি কথা বলেছি তার অনুমতি পেলে দলিল বাতিল করন সহ দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Powered By : Intizar24 Developed By : BDiTZone